
মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক কানাডার, একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর পথে অটোয়া
- Rashtrix News Desk

- Aug 26
- 2 min read
ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরে আমেরিকার পণ্যের উপরে নতুন করে পাল্টা শুল্ক চাপাল কানাডা। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ভারত-সহ একাধিক দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার উদ্যোগ নিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার এক সপ্তাহ পরে আমেরিকান পণ্যের উপরে নতুন পাল্টা শুল্ক ঘোষণা করল কানাডা। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে চলা এই শুল্ক প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বার্ষিক মার্কিন আমদানির উপরে বসানো হচ্ছে। ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, গৃহস্থালির যন্ত্রপাতি, কৃষি সরঞ্জাম এবং পাল্প ও কাগজ শিল্পের উপরে ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।
গত ২১ অগস্ট আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরেই এই ঘোষণা এল। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির অভিযোগ, শেষ মুহূর্তে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত শর্তে যে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, তা ছিল "অন্যায্য এবং অর্থনৈতিক ভাবে অযৌক্তিক", যা যে কোনও চুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দেয়। এই ভাঙনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের উপরে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসানোর কথা ছিল।
কানাডার প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে কার্নি বলেন, "আক্রান্ত হলে তবেই যুদ্ধ শুরু হয়। আমরা আক্রান্ত হয়েছি।" আলোচনার ভাঙন নিয়ে অর্থমন্ত্রী ফ্রঁসোয়া-ফিলিপ শঁপাইনের বক্তব্য আরও স্পষ্ট, "যুক্তরাষ্ট্র বেশি চেয়েছিল, দিয়েছিল কম। তাই আমরা কানাডাবাসীর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।" ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত সহায়তা প্যাকেজেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কার্নি সরকার।
বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকছে অটোয়া। আর এই কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিচ্ছে ভারত।
নতুন শুল্কে কী কী রয়েছে
কার্যকর হবে: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ থেকে
মূল্য: বার্ষিক প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন আমদানি
হার: ক্ষেত্রভেদে ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ
ক্ষেত্র: ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, কৃষি সরঞ্জাম, পাল্প ও কাগজ
সহায়তা: ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পের জন্য প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের বাড়তি প্যাকেজ
কেন ভেস্তে গেল ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা
নতুন করে শুল্কযুদ্ধ এড়াতে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছিল দ্বিপাক্ষিক আলোচনা। কানাডা সরকারের দাবি, শেষ মুহূর্তে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত শর্তে পরিবর্তন আনার পরেই তা ভেস্তে যায়। কার্নির কথায়, "ওরা যা প্রস্তাব দিয়েছে, তা আমরা মেনে নিতে পারি না। আবার ওরা যা চাইছে, তা-ও আমরা দিতে পারব না।" এর পাশাপাশি অন্য একটি বাণিজ্য বিরোধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের হুমকিও পরিস্থিতি জটিল করে তোলে বলে অটোয়ার দাবি।
ভারতের দিকে এগোচ্ছে অটোয়া
যুক্তরাষ্ট্র-নির্ভরতা কমানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কার্নি। ভারত সফরে তিনি মুম্বই যাবেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শিল্পোদ্যোগীদের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই বৈঠকের লক্ষ্য।
২০২৪ সালে কানাডার সপ্তম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল ভারত। ২০২৩ সালে কানাডার মাটিতে এক শিখ কর্মী খুনের ঘটনা নিয়ে অভিযোগের জেরে দু'দেশের সম্পর্কে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ফের গতি পেয়েছে আলোচনা। কানাডার বিদেশমন্ত্রী আনিতা আনন্দ এ বছর একাধিক বার ভারতীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
কার্নির কথায়, "অনিশ্চিত বিশ্বে আমরা যেটুকু নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, তার উপরেই জোর দিচ্ছে কানাডা। আমরা বাণিজ্য বৈচিত্র্যকরণ করছি এবং বিপুল নতুন বিনিয়োগ টানছি।" আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্র বহির্ভূত রফতানি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য স্থির করেছে কার্নি সরকার। আপাতত ৮ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর হচ্ছে পাল্টা শুল্ক, তবে তার আগে ফের আলোচনার টেবিলে দুই দেশ ফিরবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।

Comments