top of page

হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ অনশনরত সোনমের স্ত্রী

  • Writer: Rashtrix News Desk
    Rashtrix News Desk
  • Jul 18
  • 2 min read

নয়াদিল্লি — জলবায়ু আন্দোলনকর্মী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক, যিনি তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সংসদ ভবনের বাইরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁর স্ত্রী শনিবার অভিযোগ করলেন — দিল্লি পুলিশ হাইকোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করে তাঁর স্বামীকে জোর করে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে।


সফদরজং হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে, যেখানে শনিবার সকালেই ওয়াংচুককে নিয়ে যাওয়া হয়, তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো বলেন, আদালতের নির্দেশে শুধু নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছিল — হাসপাতালে ভর্তি করার কথা নয়। তাঁর কথায়, নির্দেশে শুধু নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা ছিল, ভর্তির নির্দেশ ছিল না — অর্থাৎ, আদালত যা বলেছিল, বাস্তবে তার সঙ্গে এই পদক্ষেপের মিল নেই। তিনি আরও জানান, এখনও কোনও চিকিৎসা শুরু হয়নি, শুধু পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা চলছে, এবং পরিবার চায় সেই রিপোর্ট স্বাধীনভাবে বাইরের একটি ল্যাবরেটরিতে যাচাই করাতে।


তবে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। নয়াদিল্লির ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশের দপ্তর থেকে সমাজমাধ্যমে জানানো হয়, হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কারণ ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছিল। পুলিশ আরও দাবি করে, স্থানান্তরের সময় বিক্ষোভকারীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সামান্য উত্তেজনা তৈরি হয়, তবে পুলিশ সর্বোচ্চ সংযম দেখায়।


গত কয়েক মাস ধরে চলা আইনি লড়াইয়ে আংমো তাঁর স্বামীর সবচেয়ে সরব প্রতিনিধি হয়ে উঠেছেন। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, তাঁর, পরিবারের অথবা গত কুড়ি দিন ধরে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা চিকিৎসকদের সম্মতি ছাড়া তাঁকে মুখে বা শিরার মাধ্যমে কিছুই দেওয়া উচিত নয়। হাসপাতালের দেওয়া তথ্যকেও তিনি চ্যালেঞ্জ জানান — জানান, আগের দিন তাঁর পটাশিয়ামের মাত্রা ছিল ৪.৩, যেখানে প্রচারিত ২.৯ সংখ্যাটি সঠিক নয়।


হাসপাতালে ভর্তি হলেও আন্দোলন থামছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন আংমো। ২০ জুলাই সংসদ অভিযান পূর্বনির্ধারিত সূচি মেনেই হবে বলে জানান তিনি, বলেন — শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার সরকার ও নীতিনির্ধারকদেরই দায়িত্ব, আর তাঁদের কাজ হল দেশকে বোঝানো যে ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। তাঁর মতে, এই আন্দোলন এখন আর শুধু একটি জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সীমাবদ্ধ নেই — এটি শিক্ষানীতি নিয়ে এক বৃহত্তর জাগরণের রূপ নিয়েছে, যা ইতিমধ্যেই দেশের বিবেককে যথেষ্ট নাড়া দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।


প্রশাসনের সঙ্গে ওয়াংচুকের এই দীর্ঘ সংঘাতের সাম্প্রতিকতম অধ্যায় এই হাসপাতালে ভর্তির ঘটনা। গত সেপ্টেম্বরে লাদাখে অশান্তির পর জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (এনএসএ) তাঁকে আটক করা হয়েছিল, যে মামলা এখনও সুপ্রিম কোর্টে লড়ছেন আংমো — তাঁর দাবি, ওই আটকাদেশ পুরনো ও অপ্রাসঙ্গিক মামলার ভিত্তিতে করা হয়েছে, যার সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই।


Comments


bottom of page